April 21, 2016

ডুমুরিয়ার ভূমি কর্মকর্তাকে জুতাপেটা

খুলনার ডুমুরিয়া ৩নং রুদাঘরা ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রমজান আলীকে জুতাপেটা করেছে জনতা। 



খুলনার ডুমুরিয়া ৩নং রুদাঘরা ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রমজান আলীকে জুতাপেটা করেছে জনতা। মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাখিলা কাটাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। খরসংঘ গ্রামের আবু সুফিয়ান দাখিলা কাটতে রুদাঘরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময়ে ভূমি কর্মকর্তা ১৪ শতক বাস্ত ও ৯১ শতক বাগান বাড়ির জন্য ৪৩ বছরের বকেয়া খাজনা বাবদ ১৪ হাজার টাকা আদায় করেন সুফিয়ানের কাছ থেকে। অথচ দাখিলায় মাত্র ৯ হাজার ৭১৪ টাকা লেখা হয়। এ নিয়ে সুফিয়ানের সঙ্গে ভূমিকর্তার তর্কাতর্কি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ২/৩শ’ লোক জড়ো হয় ভূমি কার্যালয় চত্বরে। এলাকাবাসী জানায়, রমজান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দাখিলা কাটতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতেন। এ অবস্থায় গতকালের ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন রমজান আলীর ওপর হামলা চালান। জুতাপেটা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল হাসান পরিদর্শন করেন। 

Courtesy: http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=10818

January 3, 2016

ঘুষের বাজারদর

ঘুষের বাজারদর

ঘুষকে ‘ঘুষ’ বললে ঘুষখোরদের সম্মানে ঘা লাগে। তাই ‘সালামি’, ‘সম্মানী’, ‘বকশিশ’, ‘সার্ভিস চার্জ’, ‘নজরানা’, ‘চা-পানির খরচ’, ‘স্পিড মানি’, ‘পারসেন্টেজ’, ‘গিভ অ্যান্ড টেক’, ‘কমিশন’ ইত্যাদি নানা ‘সম্মানজনক নাম বা শব্দে’ চলছে ঘুষের অবৈধ লেনদেন। 


শুধু তা-ই নয়। ইতিপূর্বে বাঁ-হাতে বা ড্রয়ার খুলে দিয়ে স্পর্শ না করে ঘুষ গ্রহণের রেওয়াজ ছিল। এখন সেই রাখঢাক বজায় রাখা বা গোপনীয়তার তোয়াক্কা না করে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে প্রকাশ্যেই চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। তবে অফিস-আদালতে সিসি ক্যামেরা বাড়ায় বাসা-বাড়ি ও বাইরেই ঘুষের লেনদেন বাড়ছে। এতেই শেষ নয়। কোন কাজের জন্য ঘুষের হার কত সেই বাজারদরও এখন জনে জনে জানা। তাই ঘুষ ছাড়া কাজ করার পরিবর্তে উল্টো ঘুষের প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম খরচে কাজ আদায়ের চেষ্টা-তদবিরেই বাধ্য হচ্ছেন অসহায় গ্রাহকরা। তবু ঘুষের তেমন অভিযোগই পাচ্ছে না দুর্নীতি দমন কমিশন। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ফাঁদ পেতে ঘুষখোরদের ধরার অভিযানও নেই।

গত ১৭ই নভেম্বর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরে প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনের নানা দৃশ্য চোখে পড়ে। এতেই ক্ষান্ত ছিলেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঘুষের সঙ্গে বিনা রশিদে টাকা নিয়ে গ্রাহকদের ভূমির ম্যাপ ও খতিয়ান বা পর্চার ছায়াকপি সরবরাহ করে সরকারি ফি’র পুরোটাই মেরে দিচ্ছেন। সরজমিন দেখা যায়, ওইদিন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে আসেন আবদুস সামাদ। অন্য প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের সঙ্গে তিনি ওই অধিদপ্তরের প্রথম ও প্রধান করিডোর সংলগ্ন ‘গ্রহণ ও প্রেরণ বা আদান-প্রদান শাখায়’ অপেক্ষা করছিলেন। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, একটি ম্যাপের ছায়াকপির জন্য এর আগে কয়েকবার এসেছি। পাইনি। আজ এসে বাধ্য হয়ে সামনে বসে থাকা ওই ব্যক্তিকে (আঙুল দিয়ে কাউন্টারে বসা মামুনুর রহমানকে দেখিয়ে) ৫২০ টাকার কাজের জন্য ৭০০ টাকা দিয়েছি। আজ বিকালের মধ্যে দেয়া হবে জানিয়ে তিনি অপেক্ষা করতে বলেছেন। এজন্য কোন রশিদও দেয়া হয়নি। একই ভাবে নির্ধারিত ৫২০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে অধিকাংশ গ্রাহককেই টাকা গ্রহণের রশিদ দেয়া হয়নি। অথচ ডুপ্লিকেট কার্বন রশিদে টাকা আদায়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর পরপর তার সামনেই নিজেকে গ্রাহক পরিচয় দিয়ে এই প্রতিবেদক কথা বলেন মামুনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আগামী রোববার সরকারি ফি অনুযায়ী ৫২০ টাকা করে যত কপি প্রয়োজন ম্যাপ ও খতিয়ান বা পর্চার কপি দেয়া যাবে। রশিদ দেয়া হবে না। যেহেতু টাকা গ্রহণের রশিদ দেয়া হবে না, সেহেতু টাকা কিছুটা কম নেন- এমন অনুরোধেও কম নিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। কথার একপর্যায়ে নিজের পরিচয় দেয়ার পর তৎক্ষণাৎই ঘুষ গ্রহণ ও বিনা রশিদে টাকা নেয়ার কথা বেমালুম অস্বীকার করে বসেন মামুনুর রহমান। একইভাবে অস্বীকার করেন রশিদ প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা কর্মচারীসহ আরও দু’জন। একইভাবে আরও অন্তত কয়েক ডজন গ্রাহককে বিনা রশিদে টাকা নিয়ে ম্যাপ ও পর্চার কপি সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

রশিদ দেয়ার দায়িত্বে থাকা এক মহিলা কর্মী ও মামুনুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, প্রতিদিন এভাবে দেড় শতাধিক গ্রাহকের সমাগম হয়। এসব গ্রাহকের অধিকাংশেরই আরএস, বিএস, সিটি ম্যাপ এবং পর্চাসহ একাধিক কপির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ওইদিন আবেদন গ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষে বিকাল সাড়ে ৩টায় মাত্র ৩২ জনকে রশিদ প্রদান করতে দেখা গেছে। আবেদনের সর্বশেষ ক্রমিক ছিল ৩৭২০ নম্বর।

গাড়ি থেকে নেমে এক কর্মকর্তা অধিদপ্তরে প্রবেশের সময় এক নারী গ্রাহক রশিদ ছাড়া টাকা গ্রহণের অভিযোগ করেন। দেখিয়ে দেয়ার জন্য ওই কর্মকর্তাকে সে কক্ষে নিয়ে যেতে চাইলে কর্মকর্তা যেতে উদ্যত হন। পরক্ষণেই উল্টো ফিরে ভেতরে ঢুকে যান ওই কর্মকর্তা। মহিলা তার পিছু নিলে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি গেইটে থাকা খাকি পোশাক পরা অপর কর্মচারী। পরে ভেতরে গিয়েও ওই কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের ১৯ জোনের মধ্যে প্রতিদিন ঢাকা জোনের ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার মানুষ ওই অধিদপ্তরে এমন বাজারদরে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের শিকার হচ্ছেন। 

একইভাবে ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সেবা গ্রহণেও চলছে ঘুষের বাহার। জমির নামজারির-ফি আড়াইশ’ টাকার সঙ্গে আর মাত্র ২০ টাকা কোর্ট-ফি যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও তেজগাঁও ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা এই সেবা দেয়ার জন্য ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। একইভাবে রেজিস্ট্রি-ফি দাবি করে প্রতি লাখ টাকা মূল্যের বিপরীতে ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে। তবে তারা নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরও কিছুটা কমে কাজ করে দেয়ার সম্মতি জানায়।
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুুল জলিল দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, এই কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন বন্ধ করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সমূলে উৎপাটন করতে পারিনি। তা কঠিনও বটে। পদ্ধতিগত পরিবর্তন ও অনলাইনে সেবা সরবরাহের মাধ্যমে দুর্নীতি ও গ্রাহকের হয়রানি কমানো সম্ভব। আমরা সেই সক্ষমতার দিকে এগুচ্ছি। তবে ঘুষের সঙ্গে বিনা রশিদে ম্যাপ ও পর্চা সরবরাহ করে সরকারি টাকাটাও মেরে দেয়ার বিষয়টি এই প্রথম জানলাম। আপনি ওই কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় জানালে হাতে-নাতে ধরা যেত। তবে কর্মচারীর পরিচয় দিয়ে টাউটরা তা করতে পারে।

শুধু ভূমি খাতে নয়। অন্যান্য খাতে ও অফিস-আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমরমা ঘুষ বাণিজ্য এবং ঘুষের প্রকাশ্য ও প্রচলিত বাজারদর সম্পর্কে। ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে ব্যবসায় লাইসেন্স নিতে অতিরিক্ত ২০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। থানায় বিনামূল্যে সাধারণ ডায়েরি করার সেবা নিতে দিতে হচ্ছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে ৩ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা, আমদানি সনদের ২০ হাজার থেকে এক লাখ, রপ্তানি সনদের ঘুষের বাজারদরও প্রায় একই, বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত গচ্চা দিতে হয় ৫ হাজার ২০ হাজার টাকা। রাজধানীর অগ্রসর কোন স্কুলে ভর্তির জন্য লাগে ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। কারাগারে স্বজনদের দেখতে লাগে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা। তা দেয়া না হলেও ওই বন্দির অবস্থানের কারা ওয়ার্ড নম্বর জানা থাকলেও তাকে খুঁজেই পাওয়া যায় না। এছাড়া নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমতির জন্য ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ, সরকারি চাকরির ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ, পুলিশের চাকরি ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ, পুলিশ ভেরিফিকেশন সনদ পেতে ৫০০ থেকে দেড় হাজার, পুলিশের বদলি ৫০ হাজার থেকে ৩০ লাখ, পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করাতে ৫০০ থেকে ৫০ হাজার, বাড়ির প্ল্যান পাস করাতে ৩০ হাজার থেকে ৬ লাখ, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি ১০০ থেকে ২ হাজার, ফৌজদারি মামলার মেডিকেল সনদ ৫ হাজার ৪০ হাজার টাকা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা। রেলওয়ের বিভিন্ন কর্মচারী পদে চাকরির জন্য লাগে ২ থেকে ৬ লাখ টাকা। কয়েক বছর আগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধার ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের চেয়ে এখন বেড়েছে রেলওয়ের চাকরি প্রদানের ঘুষের বাজারদর। পাসপোর্ট করাতে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায় মিলে অবৈধ পাসপোর্ট। কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ১ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত মেডিকেল সনদ মিলছে না বিদেশ গমনেচ্ছুদের অর্ধেকের বেশি মানুষের। ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ২ থেকে ৬ হাজার টাকা। চট্টগ্রামসহ বন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে লাগে ১৫ থেকে ২০ হাজার, হাউজ লোন পেতে হাতডালি দিতে হচ্ছে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হচ্ছে ২ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আতিউর রহমান বলেন, কোন ব্যাংক যদি চাকরি প্রার্থীদের আবেদনের ক্ষেত্রে ফি হিসেবে টাকা-পয়সা নেয়, তাহলে সেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কোন ব্যাংক এখনও টাকা নিয়ে থাকে তাহলে নামসহ অভিযোগ করলে জড়িত ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস-আদালতে নিয়োগ ও গ্রাহক সেবার বিপরীতে ঘুষের নানা অংকের বাজারদর প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন অফিসে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই এ রকম প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের বহু দৃশ্য চোখে পড়ে। চোখ-কান খোলা রেখে ঘণ্টাখানেকের অপেক্ষায় চোখে পড়তে পারে যে কারও। তবু ঘুষখোরদের হাতেনাতে ধরার জন্য তেমন ফাঁদ পাতছে না দুর্নীতি দমন কমিশন। ঘুষের তেমন অভিযোগও পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় হলেও চলতি বছর রাজধানী ও ঢাকা জেলায় ফাঁদ পেতে হাতেনাতে ঘুষ লেনদেনের সময় কোনো ঘুষখোরকেই ধরা হয়নি। সারা দেশে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য চললেও পুরো দেশেই এ বছর ফাঁদ পেতে ধরা ঘুষ লেনদেনের সংখ্যা আধাডজনের বেশি মাত্র। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৩টি, নওগাঁ, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গায় ১টি করেসহ আরও বেশ কয়েকটি ফাঁদ পেতে ঘুষের লেনদেন হাতেনাতে ধরেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তারা। যা রমরমা ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপক উপস্থিতির তুলনায় একেবারে নগণ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্নীতি দমন কমিশন বাংলাদেশের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, ঘুষ প্রায় ক্ষেত্রেই ধরা যায় না। কেউ ঘুষ খেয়ে ফুলে ফেঁপে উঠলেই তদন্ত করে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিই। ঘুষের নিয়মিত অভিযোগ ও মামলাগুলো তদন্ত করেও ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর বাইরে ফাঁদ পেতেও ঘুষখোর ধরা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে বিভিন্ন সেবা প্রদান বা গ্রহণে ঘুষের প্রকাশ্য বাজারদর চালু হয়ে গেছে, সে ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে অনেক সময় ফাঁদ পেতে ঘুষখোরকে হাতেনাতে ধরা হচ্ছে। তবে এ বছর ঢাকার বাইরে হাতে-নাতে ঘুষ গ্রহণের সময় কয়েকজনকে ধরা হলেও ঢাকায় কাউকে ধরা যায়নি।

August 23, 2015

ঘুষের আখড়া - ফিটনেস ফ্যাক্টরি

নেই রুট পারমিট। নেই ফিটনেসও। অবাধে চলছে লক্কড়-ঝক্কর যানবাহন। সেই সঙ্গে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে লেগুনা-অটোরিকশা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব গাড়ি। যে কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। সৃষ্টি হচ্ছে লাগামহীন যানজট। এসব গাড়ি চলাচল রোধ করতে কখনও কখনও অভিযান হয়। মূলত অভিযানের নামে করা হয় আইওয়াশ। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙার দায়ে যানবাহন আটক করে মামলা দিয়ে ভুয়া রশিদের মাধ্যমে আদায় করা হয় জরিমানার টাকা। এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমার বদলে চলে যায় অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের দাবি মতো চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই মামলা দিয়ে দেন অনেকে। এমনকি এই মামলার জরিমানা দিতে গিয়েও হয়রানির শিকার হন তারা। দালাল ও সরকারি কর্মকর্তাদের খপ্পরে পড়ে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। অনুসন্ধানে বের হয়েছে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে ফিটনেস গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। রাজধানীতে গত জুলাই পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা প্রায় ৯ লাখ গাড়ির মধ্যে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫১টি গাড়িই ফিটনেসবিহীন। সূত্রমতে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১১৯২টি বাসের নিবন্ধন করা হয়। তার আগে ২০১৪ সালে ১৩৬৪টি, ২০১৩ সালে ৯৭১টি, ২০১২ সালে ১২১৮টি, ২০১১ সালে ১৫০১টি, ২০১০ সালে ১২৩১টি বাসের নিবন্ধন করা হয়। রাজধানীতে ৯২টি কোম্পানির বাস-মিনিবাস মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার বাস চলাচল করে। এসব বাসের মধ্যে বেশির ভাগই সড়কে চলাচল করে সুযোগ বুঝে। অভিযান চলাকালে বাসগুলো সড়কে নামান না মালিকপক্ষ।

অবাক করার মতো হলেও সত্য ফিটনেস না থাকলেও ফিটনেসের সনদ আছে অনেক গাড়ির। এসব সনদ নিতেও তেমন ঝামেলা পোহাতে হয় না। এমনকি চালকের সনদও মিলে খুব সহজে। বিআরটিএ কার্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, দালালদের উপদ্রব সেখানে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অযোগ্য ব্যক্তিকে চালক হিসেবে সনদ দেয়া থেকে শুরু করে সবকিছুই মিলে বিআরটিএ’র কার্যালয়ে। এসব কাজ করে দেয়ার জন্য এখানে রয়েছে শতাধিক দালাল। গাড়ির নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সকল কাজই করে দেন তারা। তবে এজন্য দিতে হয় উৎকোচ। উৎকোচের বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে ফিটনেসের কাগজ মিলছে সহজে। একটি গাড়ির ফিটনেস সনদ নিশ্চিত করতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নেন দালালরা। ব্যাংকে ৭৫০ টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা ভাগ হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দালালের মধ্যে। ৭-৮ হাজার টাকার বিনিময়ে মিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স। শাকিল নামে এক দালাল জানান, পরীক্ষা দেয়া ছাড়াই ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে পারেন তিনি। তবে পরীক্ষার দিন উপস্থিত থাকতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের মোহাম্মদপুর (পশ্চিম) কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র। মামলার জরিমানা দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় সাধারণ মানুষকে। কিন্তু সেখানে কর্মরত এসআই মাসুদ ও এসআই তাজ চক্রের দালালদের উৎকোচ দিলেই সহজে সমাধান হয় সকল কর্ম। গত ২৭শে জুলাই মামলার জরিমানা জমা দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার এক চালক জানান, ২৬শে জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় সার্জেন্ট মোতালেব একটি গাড়িকে রেকার লাগিয়ে তুলে নেয়। পরে মামলা দেন। মামলার পর তিনি বলে দেন ট্রাফিক কার্যালয়ে গিয়ে এসআই মাসুদ বা তাজের সঙ্গে দেখা করিস। পরদিন জরিমানা দিতে গিয়ে প্রথমে লাইনে দাঁড়ান তিনি। পরে এসআই তাজের সঙ্গে দেখা করে সহজেই জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন। পরে ৯শ’ টাকার স্ট্যাম্প কেনা ও রেকারের বিল বাবদ আরও টাকা দাবি করেন ওই দুই এস আই। তাদের সঙ্গে রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের দালাল হিসেবে পরিচিত মোশাররফ। সঙ্গে টাকা না থাকলে বিকালে উৎকোচ আদায় করে এই চক্র। ২৭শে জুলাই এই চক্রের দেয়া ০১৯১৩২২১৪২৬, ০১৯১৮১১২৭৭ ও ০১৭১৮৬৮৪৬৩৬ নম্বরে ওই চালক ০১৯৩৫৪৬৮০৯৭ থেকে বিকাশে টাকা দিয়ে তবেই রেহাই পান।
জরিমানা জমা দিতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রয়োজন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে অনেকের কাছেই তা থাকে না। এই সুযোগ নেন মোশাররফ। ২শ’ থেকে ২৫০ টাকায় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বিক্রি করে বিল জমা দেন তিনি। এই কাজটি বাইরের অন্য কেউ করতে পারেন না স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের কারণে। বিআরটিএ’র এই অনিয়ম সম্পর্কে উপ-পরিচালক প্রকৌশলী এসকে মাহবুব-ই-রাব্বানী বলেন, বিআরটিএ-কে দালালমুক্ত রাখতে আমরা সচেষ্ট। এখানে কেউ অনিয়ম করলে ছাড় দেয়া হবে না। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সনদ নিয়ে এবং সনদ ছাড়া উভয় পদ্ধতিতেই চলছে যানবাহন। আবদুল কাদের নামক চালক জানান, ফিটনেস নেই বলে প্রায়ই গাড়ি আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। টাকা দিলেই আবার ছেড়ে দেয় এভাবেই গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি। গাবতলী-যাত্রাবাড়ী রুটের একটি বাসের চালক হাবিব জানান, গাড়ির ফিটনেস নেই অনেক আগ থেকেই। সড়কে চলাচলের বিষয়টি কোম্পানির ব্যাপার। তারাই ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করেন। সূত্রমতে, ট্রাফিক পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের পরিবহন মালিকপক্ষ উৎকোচের বিনিময়ে ম্যানেজ করে। তবে অভিযান শুরু হলে এসব গাড়ির দেখা মেলে না রুটে। রাত ১০টার আগে রাজধানীতে ট্রাক প্রবেশে নিষেধ থাকলেও দিনদুপুরেই ট্রাক ঢুকতে দেখা যায়।

একইভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা-লেগুনা চালাচ্ছেন অনেকে। যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, গুলিস্থানে কথা হয় লেগুনা চালকদের সঙ্গে। তাদের অনেকেরই লাইসেন্স নেই। রাজ্জাক নামে এক লেগুনা চালক জানান, লাইন্সেন পাওয়া কঠিন। তার চেয়ে ট্রাফিক পুলিশ ম্যানেজ করেই চলছেন তিনি। এজন্য প্রতিদিনই ২৫০ টাকা লাইন ফি দিতে হয় তাকে।

শনিবার বিকাল ৫টায় খিলক্ষেত এলাকায় এক সিএনজি অটোরিকশা আটক করেন ওই এলাকার ট্রাফিক সার্জেন্ট সুকান্ত। চালক লাল মিয়ার অভিযোগ, যত্রতত্র পার্কিংয়ের অভিযোগে তার কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করেন সুকান্ত। টাকা দিতে রাজি না হলে রেকারের ভয় দেখান তিনি। শেষ পর্যন্ত লাল মিয়ার অটোরিকশার নামে একটি মামলা দেন সুকান্ত। অনেকক্ষেত্রেই উৎকোচ গ্রহণ করে আইন অমান্য করা চালকদের মামলা থেকে রেহাই দেন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটনের ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে অভিযান চলছে। এসব গাড়ি দুর্ঘটনা ও যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীতে ট্রাক প্রবেশ সম্পর্কে তিনি জানান, রাত ১০টার আগে বাইরে থেকে রাজধানীতে ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। এসব ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের কেউ অনিয়ম করলে সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুর্বে প্রকাশিতঃ mzamin.com/details.php?mzamin=ODg3ODg=&s=Mw==

August 22, 2015

বিদেশে যাচ্ছেন, মিষ্টি খাওয়াবেন না?

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তাদের মিষ্টি খাওয়াতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বর্হিগমন যাত্রীরা। তবে সরাসরি মিষ্টি নয় ৫’শ কিংবা এক হাজার টাকা দিলেই মিষ্টি খাওয়ার চাহিদা পুরণ হয় সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তাদের। এভাবে সকল যাত্রীর কাছ থেকেই মিষ্টি খাওয়ার আবদার করে থাকেন তারা।

যাত্রীর মালামাল চেক করার সময় এভিয়েশন কর্তারা লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে যাত্রীদের কাছে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা চাইতে থাকেন। টাকা না দিতে পারলে দেশের বাহিরে যাবেন অথচ আমাদেরকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা মনে থাকেনা বলে মৃদু ভৎসনা করেন।

এছাড়া, কারও পকেটে বাংলাদেশী টাকা থাকলে বিদেশে বাংলাদেশী টাকা দিয়ে কি করবেন বলে টাকাগুলো কেড়ে নেন কর্মকর্তারা।


মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা বিমানযাত্রী সেলিম পাঠান ৭ দিনের জন্য মালয়েশিয়া বেড়াতে যাবেন। ইমিগ্রেশন পার করে সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তার সামনে গেলে তার মানিব্যাগ চেক করে চারশ টাকা পান। বিদেশে বাংলাদেশী টাকা নেয়া নিষিদ্ধ জানিয়ে টাকাগুলো রেখে দেন তারা। কিন্তু এ টাকা কোথায় যাবে জানতে চাইলে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।


এ প্রতিবেদক নিজেও এভিয়েশন কর্মকর্তাদের এমন আচরনের সম্মুখিন হন। মানিব্যাগে প্রায় ১৭’শ টাকা পাওয়া গেলে সে টাকা রেখে দিতে চান। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তখন কর্মকর্তারা বলেন, ‘ভাল কথা, বিদেশে যাচ্ছেন তো আমাদেরকে মিষ্টি খাওয়াবেন না? এ প্রতিবেদক ২’শ টাকা বের করে দিতে চাইলে এক নারী কর্মকর্তা রাগত স্বরে বলেন, ‘লাগবে না আপনার টাকা, এ দিয়ে কি মিষ্টি খাওয়া যাবে? আপনি নিজেই খান।


মুন্সিগঞ্জ থেকে মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য ইমিগ্রেশন পার করে এভিয়েশন কর্মকর্তার সামনে আসেন আব্দুর রশিদ নামে একজন ব্যবসায়ী। প্রবাসে থাকা আত্মীয়-স্বজনের জন্য তিনি দুই প্যাকেটে ৪ কেজি মিষ্টি হাতে করে নিয়ে আসেন। এভিয়েশন কর্তারা তার কাছেও মিষ্টি খাওয়ার টাকা চেয়ে  বলেন, মিষ্টি বিদেশে নিয়েই যাবেন, আমাদেরকে খাওয়াবেন না? তিনি প্যাকেট  খুলে মিষ্টি খেতে দিতে চান। তখন কর্মকর্তারা বলেন, আপনি টাকা দিয়ে যান আমরা পরে খেয়ে নেব।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিমানযাত্রী বলেন, সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তারা মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে এক প্রকার চাঁদাবাজি করছেন। অনেক সময় টাকা না দিলে ব্যাগ রেখে দেয়াসহ ফ্লাইট ক্যানসেল করে দেয়ার হুমকি দেন।


ইউনিভার্সিটি মালয়ার আইন গবেষক মিনহাজ উদ্দিন মিরান বলেন, প্রবাসে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপেই বিমান বন্দরে আমরা এমন হয়রানির শিকার হই তাহলে দেশের প্রতি টানের জায়গাটা হালকা হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় হলেও সরকার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে নিজ দেশের জনগণের কাছেই ইমেজ সংকটে পড়ে সরকার। 


পুর্বে প্রকাশিতঃ mzamin.com/details.php?mzamin=ODg5NzY=

July 2, 2015

Eid festival; Bribe festival

ঈদ কারো জন্য ঘুষের উৎসব !



ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতাল সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজ। রোববার বিকাল ৩টা। ঢাকা মেট্রো ন ১৮-৪৩৯৪ নম্বর মি
নি ট্রাকটি থামালেন ট্রাফিক কনস্টেবল মাজহার। চালক বাবুকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামান এসআই আবদুল জলিল ও মাজহার। ছোঁ মেরে পকেট থেকে নিয়ে নেন ড্রাইভিং লাইসেন্স। চালক দেরি না করে আবদুল জলিলের পায়ে পড়েন। আকুতি জানান লাইসেন্স ফেরত দেয়ার। কিন্তু দুই পুলিশ নাছোড়বান্দা। লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে আবদুল জলিল বসেন ওভারব্রিজের নিচে রাখা মোটরসাইকেলের ওপর। মাজহার চলে গেছেন অন্য গাড়ি আটকাতে। বাবু ও তার হেলপারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় চলে দফারফার চেষ্টা। অনেক হাতে-পায়ে ধরে ৫০০ টাকা দিয়ে ছাড়া পান বাবু। এভাবে ট্রাক, মিনি ট্রাক, রিকশা ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশায় চাঁদাবাজি করতে দেখা গেছে এসআই আবদুল জলিল ও কনস্টেবল মাজহারকে।
শুধু এ স্থানই নয়, সারা দেশেই চলছে এ দৌরাত্ম্য। মহাসড়কে বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী বাস-ট্রাকের মালিক ও শ্রমিকরা জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনার পরও সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। চাঁদাবাজি বন্ধে রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। কিন্তু সব এড়িয়ে অসাধু পুলিশ ও স্থানীয় মাস্তানরা চাঁদাবাজি করছেই। তারা শুধু টাকা আদায়ের কৌশল পরিবর্তন করেছে। আগে যেখানে সেখানে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা নিত। এখন সেটা কিছু কমেছে। তবে বেড়েছে মাসোয়ারা আদায়। ঈদ সামনে রেখে তা বাড়বে আরও। মৌসুমি চাঁদাবাজদের প্রধান টার্গেট এখন পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও যাত্রীবাহী বাস। মালিক ও চালকরা আরও জানান, এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তুলনায় ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-বেনাপোল ও ঢাকা-রাজশাহী-সোনামসজিদ রুটে চাঁদাবাজির হার বেশি।
ঢাকা মহানগর পণ্য পরিবহন এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দোলন কান্তি বড়ুয়া যুগান্তরকে জানান, সড়ক-মহাসড়কে পুলিশ ও রাজনৈতিক দল আশ্রিত মাস্তানদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন ব্যবসা করাটাই দায় হয়ে পড়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী, কাঁচপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সাইনবোর্ড, বাবুবাজার ব্রিজ, কেরানীগঞ্জের কদমতলী, মিরপুর বেড়িবাঁধ, পর্বতা সিনেমা হল এলাকা, আশুলিয়ার ধউর ব্রিজ, পোস্তগোলা ব্রিজ, সদরঘাট, গাবতলী, আমিন বাজার, আবদুল্লাপুর ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট ও তল্লাশির নামে চলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি।
দোলন কান্তি আরও বলেন, দেশের ৬৪ জেলা ও বিভাগীয় শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে পণ্য পাঠান তারা। অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ফলে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন এজেন্সি মালিক সমিতি এবং ঢাকা মহানগর পণ্য পরিবহন এজেন্সি মালিক সমিতির চাঁদাবাজির বন্ধের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সেটা তুলে নেন।
বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী নূরুল বাহার যুগান্তরকে জানান, রাস্তায় হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির পরিমাণ অনেকটা কমেছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাস্তানদের চাঁদাবাজির পরিমাণ বেড়েছে। বড় মহাসড়কের তুলনায় আঞ্চলিক সড়ক, মহাসড়কগুলোতে এ চাঁদাবাজির পরিমাণ বেশি। ঢাকা থেকে একটি গাড়ি চট্টগ্রাম গেলে প্রায় আড়াইশ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে দেশের বিভিন্ন রুট থেকে আসা ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পদ্মার উভয় পাড়ে এবং মাওয়া-কাওড়াকান্দিতে পদ্মার উভয় পারে। পাটুরিয়ায় ফেরি পারাপারের গাড়িপ্রতি ৯৫০ টাকা নির্ধারিত টোলের স্থলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সেখানে আদায় করা হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। মাওয়া ঘাটেও একই অবস্থা। মাওয়া ও কাওড়াকান্দিতে ফেরির নির্ধারিত ফির চেয়ে তিনগুণ বেশি টাকা দিতে হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসার্ট থেকে আম নিয়ে কারওয়ান বাজারে আসা ট্রাকচালক আমিনুল বিশ্বাস জানান, আশুলিয়ার ধউর, বাইপাইল, মাওনা, মির্জাপুর, এলেঙ্গা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহীসহ ১০ পয়েন্টে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে চাঁদাবাবদ তাকে ৮০০ টাকা গুনতে হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ওঠার আগে ট্রাকের ওজন দেয়ার জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রাকচালক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির জানান, প্রতি ট্রিপে চাঁদাবাবদ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ৬০০ থেকে ৬৫০, ঢাকা-রাজশাহী-সোনামসজিদ রুটে ৬০০ থেকে ৭০০, ঢাকা-বেনাপোল রুটে ৫০০ থেকে ৬০০, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আড়াইশ’ থেকে ৩০০ টাকা এবং ঢাকা সিলেট রুটে প্রায় ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। স্থানীয় মাস্তানরা বিভিন্ন সমিতি, যানজট ক্লিয়ার করাসহ বিভিন্ন অজুহাতে এসব চাঁদা আদায় করে। রাস্তায় গাড়ি চালাতে হলে হামলা-মারধরের ভয়ে ট্রাকচালকরা এসব টাকা দিতে বাধ্য হন।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঢাকা-সিলেট রুটের মিতালী পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৭৬৬৬ বাসের চালকের সহকারী জানান, প্রতি ট্রিপে ১৬০০ টাকা জিপি (চাঁদা) দিতে হয়। এর মধ্যে সিলেটের শায়েস্তাগঞ্জে ৪০, হবিগঞ্জে ৪০, ভৈরবে ৭০ টাকা, গাউসিয়ায় ২০ টাকা করে দিতে হয়। বাদবাকি টাকা দিতে হয় সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও সিলেট টার্মিনালে।
কাঁচপুরের শিমরাইল মোড়ে পাথর বোঝাই ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৫৬৪৭ নম্বর ট্রাকের চালক মহসিন জানান, কাঁচপুর থেকে ঢাকা শহরের ভেতর পাথর নিয়ে গেলে ৪ থেকে ৫ বার আটকানো হয়। প্রতিবার ২০০ টাকা করে দিতে হয়। কোনো সময় টাকা নেয়ার পরও পুলিশ মামলা করে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটের পদ্মা এক্সপ্রেস গাড়ির চালক রফিকুল ইসলাম জানান, যাত্রাবাড়ী, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডসহ ৮ পয়েন্টে প্রতি ট্রিপে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। ঈদের আগে এ চাঁদার পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে।
সায়েদাবাদে ঢাকা-লক্ষ্মীপুর রুটের যাত্রীসেবা পরিবহনের বাস চালকের সহকারী নয়ন মিয়া জানান, বড় বাসগুলোর তুলনায় লোকাল বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকই চাঁদাবাজদের প্রধান টার্গেট। কারণে-অকারণে ছোট বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা নেয়া হয়।
ঢাকা-কুমিল্লা রুটের কর্ডোভা পরিবহনের বাসচালক রফিকুল ইসলাম জানান, মেঘনা ব্রিজ, কাঁচপুর, চিটাগাং রোড (শিমরাইল) শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে। তাই পুলিশ রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা নেয় না। গাড়িতে উঠে কাগজ নিয়ে নেয়। পরে হেলপারকে পাঠিয়ে টাকা দিয়ে কাগজ নিয়ে আসতে হয়।
সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশসহ প্রতিটি ইউনিটকে বলে দেয়া হয়েছে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, হাইওয়ে পুলিশের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়ায় এরই মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজি মনিটরিংয়ে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে। খোদ আইজিপি এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। 
Courtesy: http://www.jugantor.com/last-page/2015/07/01/287045

October 14, 2013

Leaving the polutions



 


চারিদিকে এত এত আশ্বাস আর নিশ্চয়তা শুধুই মিথ্যে প্রলোভনের নতুন নতুন উদ্ভাবন; কিন্তু আমাদের ভাগ্যের শিকেটা এবারও মনে হয় ছিঁড়ল না।

জ্যামে জটে ঘামে ভেজা গানিয়েই আমাদের ঈদ করতে যেতে হবে। যাবই আমারা, এই রাস্তা, এই বাস, এই জঘন্য জ্যাম, এই ঠাসাঠাসি করে বাসের ছাদে উঠা, ট্রাকে উঠা, এই দূষিত কালো ধোঁয়া, যখন তখন জানটা খোয়ানোর ভয় নিয়ে হলেও আমরা বাড়ি যাব বাবা মার সাথে ঈদ করতে। দুষ্টু সে ছোট ভাইটি, মায়াবতী বোনটার চেহারা ক্ষণে ক্ষণেই মনে পড়ে যায়। এত কষ্ট আর উৎকণ্ঠা মাঝেও মনটা একরাশ তৃপ্তিতে ভরে যায়। যাক শেষ পর্যন্ত বাড়ি যেতে পারছি। এতেই আমাদের আনন্দ এতেই আমাদের সুখ।

বাড়িতে তো তারাই থাকে, সারা বছর অবহেলায় ফেলে রাখা কাছের কেউ যাদের দায়িত্ব তোমরা মাঝে মাঝেই অস্বীকার কর। সেই প্রিয় মুখ যাদের জন্য সারাবছর এই নোংরা শহরের কোন কোনে অস্বস্তি ভরে রাতের পর রাত কাটিয়েছি যাকে তোমরা বস্তি বল। রক্ত পানি করা উপার্জন আমার কাদের জন্য ?

দুর্নীতি আর অনুপার্জিত আয়ের বিত্ত বৈভব আর বিলাসিতায় তোমরা ভুলে গেছো কাদের ঘামে ভেজা পরিশ্রমে তোমাদের এ বিলাসিতা।

বিদায় কনক্রিটের জঙ্গল আর যান্ত্রিক জীবন।  বিদায়। বেচে ফিরি বা না ফিরি তোমরা হারাবে কালের আস্তা-কুঁড়ে।

July 11, 2012

Sandals thrown at the Judge of Dinajpur Courthouse

 দিনাজপুরে আদালতে বিচারকের উদ্দেশে স্যান্ডেল


দিনাজপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালতে বিচারকের উদ্দেশে স্যান্ডেল নিক্ষেপ করেছে আসামি। ঘটনাটি ঘটেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় দিনাজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চলাকালে। এ সময় দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট একরামুল আমীনসহ কয়েকজন আইনজীবী, কয়েকটি মামলার বাদী ও বিবাদীরা উপস্থিত ছিলেন।  আদালত চলাকালে জিআর ১৪৭ মামলার মোটরসাইকেল চুরি মামলার আসামি দুলাল (২৬) বিচারকের উদ্দেশ্যে এই কাজটি করে। প্রথম স্যান্ডেলটি গিয়ে কোর্ট জিআর পুলিশ ইন্সপেক্টরের গায়ে লাগে। এতে হতবিহবল হয়ে পড়ে সবাই। পরক্ষণেই কোমরে লুকিয়ে রাখা আরেকটি স্যান্ডেল বের করে ছুড়ে মারলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজির হোসেন মাথা সরিয়ে নেন। ফলে এটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে হৈচৈ পড়ে যায় আদালত পাড়ায়। পরে এ ব্যাপারে আসামি দুলালকে আদালতে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলে,  এই বিচার, বিচারক নয়, উনি কাগজ কুড়ানো বিচারক! প্রকৃত দোষীদের বিচার না করে নিরীহ মানুষদের জেলখানায় বন্দি করে রেখেছে। তাদের জামিন দিচ্ছে না। দিনাজপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট একরামুল আমীন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানান। তিনি বলেন, ওই আসামি আসলে খুব খারাপ ব্যক্তি। জঘন্য মানুষ! সে খুব খারাপ কাজ করেছে।

Courtesy: http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTI5Mjk=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==

July 10, 2012

Corrupted relief distributor consumed 160 million taka of rice in one district only

 টিআর-কাবিখা: এক জেলাতেই সাবাড় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা

প্রকল্প থেকে অনেক দূরে চাল-গম। উপজেলা সদরেই সব শেষ। চাল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস, খাদ্য অফিস, আড়ালে থাকা উপজেলার বড় কর্মকর্তা, কোথাও কোথাও জনপ্রতিনিধিদের ভাগ। সব মিলিয়ে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে বরাদ্দের তিন ভাগের দু’ভাগ। বাকি এক ভাগও প্রকল্প বা কাজের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছায় না। টেস্ট রিলিফ (টিআর)-এর ১ টন চালের সরকারি মূল্য ৩৪ হাজার ১৯৫ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া এই চালের মূল্য দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে কম মূল্য দেয়ার রেকর্ড হয়েছে সদর উপজেলায়। এখানে চালের মূল্য দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। অর্ধেকের কমে চাল বিক্রি হলেও কাগজপত্রের হিসাব আবার পাক্কা। নানাভাবে ৩৪ হাজার ১৯৫ টাকার হিসাবই মেলানো হচ্ছে। জেলার কয়েকটি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালের এই দর সাব্যস্ত করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। তাদের মূল্যের বাইরে চাল বিক্রি করা কঠিন। উপজেলা খাদ্য অফিস, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আছে তাদের যোগসাজশ। অভিযোগ আছে প্রকল্প কমিটির লোকজন সরাসরি বরাদ্দ আনতে গেলে তাদের শিকার হতে হয় নানা হেনস্তার। ধরিয়ে দেয়া হয় গুদামে রাখা পচা চাল। আর ব্যবসায়ীদের দেয়া হয় ভাল চাল। এই চাল বিক্রি করে তারা সরকার নির্ধারিত দামের কাছাকাছি টাকা ঠিকই বুঝে নেয়। কিন্তু প্রকল্পধারীদের মিলে অর্ধেকেরও কম টাকা। এই টাকায় শেষমেশ কাজ আর হয় না। একই অবস্থা কাবিখা’র গমের। ২৫ হাজার টাকার গম ১৪-১৫ হাজার টাকা। সরজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নানা কারসাজিতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পকেট ভরছে পিআইও, ইউএনও, কোথাও কোথাও দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিদের। অবশ্য জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে থেকে তাদের মনোনীতদের মাধ্যমে বুঝে নেন টাকার হিস্যা। সব মিলিয়ে হরিলুটে প্রকল্প হয়ে ওঠে খোলা মাঠ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ২০১১-১২ অর্থবছরে টিআরের মোট বরাদ্দ এসেছে ৫৯৬৬ টন। ৩৮৩৩টি প্রকল্পের বিপরীতে দেয়া হয় এই বরাদ্দ। এরমধ্যে বিশেষ ও সাধারণ ক্যাটিগরি রয়েছে। বরাদ্দকৃত এসব চালের আর্থিক মূল্য প্রতিটন ৩৪ হাজার ১৯৫ টাকা হিসেবে ২০ কোটি ৪০ লাখ ৭ হাজার ৩৭০ টাকা। কিন্তু প্রকল্পধারীরা ১ টনের মূল্য পেয়েছে ১৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে ৫৯৬৬ টন চালের দাম আসে ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বাকি ১১ কোটি ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৭০ টাকা গায়েব। এর কোন হিসেব নেই। কাবিখার ৮৩১টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬০৫৪ টন গম। এই বরাদ্দও আসে দুই ক্যাটিগরিতে। সরকারি দর ২৫ হাজার টাকা হিসাবে এর মূল্য আসে ১৫ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বলা হচ্ছে, গমের মূল্য দেয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকা করে। সে হিসেবে এই গম বিক্রি হয়েছে ৯ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। এখানেও গায়েব প্রায় ৬ কোটি ৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। টিআর-কাবিখা থেকে সব মিলিয়ে সিন্ডিকেটের ধান্দা হয়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
কে নির্ধারণ করলো এই দাম: সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস। সেখানেই দেখা হয় বাসুদেব ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। জানান, চান্দি নদীরপাড় গোরস্থানের জন্য ২ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলেন। বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা। জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন এত কম দাম দেয়ায়। কিন্তু লাভ হয়নি। মনোনীত চাল ব্যবসায়ী বলে দেন, অন্য জায়গায় গিয়ে বিক্রি করেন। অফিস সহকারী সেলিম মিয়া বলেন, এটা একটা রহস্য। চাল-গমের দামডা কারা ঠিক করে সেইটা আগে খুইজ্জা বাইর করেন। সেলিম বলেন, আমরার কথা অইল জাগাত মাল নিবা কাজ করবা। এখানেই জানা গেল, বরাদ্দের ডিও দেয়ার ১৫ দিন আগেও কেউ কেউ (প্রকল্পধারী) টাকা নিয়ে যান চাল-গম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। নাসিরনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. হোসেনও অনুরোধ জানান, আসল রহস্য খুঁজে বের করার। বলেন, ভাই চাল নিয়ে আর পারি না। চাল বিক্রি হয় সাড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু আমাদের তো সরকারি রেট বিভিন্ন ভাউচার দিয়ে সমন্বয় করতে হয়। দাম কম পাওয়ায় প্রকল্প চেয়ারম্যানরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের একটি ঘটনাও জানান এই কর্মকর্তা। বলেন, ৭-৮ মাস আগের ঘটনা। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার জন্য ১২ টন চাল বরাদ্দ দেন এমপি স্যার। ভাল দামে যাতে চাল বিক্রি করতে পারেন সেজন্য আমি প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাঠাই। তিনি সেখানে নাসিরনগরের চেয়ে ২ হাজার টাকা বেশিতে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ী এই ডিও নিয়ে নাসিরনগর এলে তাকে গুদাম থেকে চাল তুলতে দেয়া হয়নি। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেই টন প্রতি ২ হাজার টাকা করে কমে বিক্রি করতে হয়। সূত্র জানায়, এখানে চাল-ধান ক্রয়ের ব্যবসা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মনিরের ছোট ভাই ও যুবলীগ নেতা অঞ্জনসহ ৮-১০ জন। নবীনগরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম, সরাইল, সদর ও বিজয়নগর উপজেলার একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. মিজানুর রহমান, কসবা ও আশুগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আরিফুল হক, আখাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিদুল আলম জানান, দাম কে ঠিক করে তা তাদের জানা নেই। নবীনগরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, বাজারের দামের সঙ্গে সরকারের দামের পার্থক্য আছে ঠিক। কিন্তু এতে আমাদের কি করার আছে। আমাদের তো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোন কানেকশন নেই। আখাউড়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যারা বিক্রি করবে আর যারা কিনবে দর-দামের বিষয়টি তাদের ব্যাপার। এ ব্যাপারে তারা স্বাধীন। বাঞ্ছারামপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিদুল আলম বলেন, পাবলিক কি করে তা তো আমার দেখার বিষয় না। তাদেরকে বলে দেই নিজ উদ্যোগে যাতে উঠিয়ে নেন।
সব ব্যবসায়ীর এক রা: চালের মান ভাল না। মোটা। পচা। গরুকে খাওয়ানোর যোগ্যও না। এই এক আওয়াজ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একেক উপজেলায় দাম একেক রকম। স্থানীয় সিন্ডিকেটই মনগড়া মতো এই দাম নির্ধারণ করে। সূত্র জানিয়েছে, শুধু তাই নয় তারা যার কাছ থেকে যত দিয়ে পারে তত দিয়েই চাল কিনে নেয়। সরকারি রেটের ধারও ধারছে না এরা। সরকারি রেটে চাল প্রতি টন ৩৪ হাজার ১৯৫ টাকা। আর গম ২৫ হাজার ১২ টাকা। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (সরবরাহ) মোহাম্মদ আবদুস সোবহান স্বাক্ষরিত এক পত্রে চাল ও গমের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়। এই চিঠি আছে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ফাইলে। অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিজেও এই রেট জানেন না। এখানকার ৯ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মধ্যে ২-১ জন ছাড়া কেউ সরকারি রেট ঠিক করে বলতে পারেননি। আর প্রকল্প মালিকরা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস থেকে ডিও নিয়ে সোজা যান ব্যবসায়ীদের কাছে। ডানে-বায়ে খোঁজও নেন না। সরকারি মূল্য জানা তো দূরে থাক। তাদের জানা আছে ব্যবসায়ীদের নির্ধারণ করা রেট। এ হিসাব মতেই টাকা গুনে নিয়ে যান। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম হচ্ছে প্রকল্প কমিটির সভাপতি বা চেয়ারম্যান ডিও নিয়ে যাবেন প্রথমে খাদ্য অফিসে। এরপর খাদ্য গুদামে। সেখান থেকে মাল উত্তোলন করে কাজ করবেন। এটাই নিয়ম। কোন কোন উপজেলায় বরাদ্দপ্রাপ্তরা খাদ্য অফিস বা গুদাম পর্যন্ত গেলেও ডিওটি সেখানে জমা করে বলে আসেন তিনি কার কাছে চাল বিক্রি করেছেন। গুদামে তা নোট রাখা হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী চাল উঠিয়ে নেন। ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েই কথা বলি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। নাসিরনগরের ইসলাম ট্রেডার্স এর মালিক হান্নান জানান, তাদের এখানে শুরুতে চালের দাম ছিল ২১ হাজার টাকা। আস্তে আস্তে তা নেমে আসে সাড়ে ১৪ হাজার টাকায়। বাঞ্ছারামপুরের উজানচরের তাজুল ইসলাম চাল কিনেছেন ১৫ হাজার টাকায়। কিন্তু এ থেকে আবার এক-দেড় হাজার টাকা অফিস খরচ কেটে রেখে প্রকল্পধারী (ব্যবসায়ীদের ভাষায় পার্টি)কে দেয়া হয় ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। অগ্রিম কিনলে দাম আরও কম দেয়া হয় বলে জানান এই ব্যবসায়ী। তাজুল ইসলাম কিনেছেন ১৯ টন চাল। তাজুল ছাড়াও এই উপজেলায় চাল কিনেছেন বাঁশবাড়ি গ্রামের আলী আহমদ, আসাদনগরের রশিদ, দুর্গারামপুরের অদুদ, উজানচরের সঞ্জিত, বুধাইরকান্দির নূরুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর সদরের হাসু। তবে সবচেয়ে বেশি চাল কিনেছেন আলী আহমদ। মোট বরাদ্দের অর্ধেকই কিনেছেন তিনি। উজানচরের সঞ্জিত জানান, চালের চাহিদা কম। ১৪-১৫ হাজার টাকা টন কিনেছেন তিনি। সব খরচ বাদ দিয়ে টন প্রতি তার লাভ হয়েছে ৫শ’ টাকা করে। বলেন কিনছি কমে, বেচছিও কমে। আখাউড়ার ব্যবসায়ী আফু মিয়া জানান, প্রথম দিকে তাদের এখানে দর ছিল ১৫ হাজার টাকা। পরে তা নেমে আসে ১৪ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকায়। নবীনগরের ব্যবসায়ী সুবল সাহা। তার সঙ্গে আছেন আলমগীর ও হাফেজ নামের আরও দু’জন। তিন জনের সিন্ডিকেট। এছাড়াও এখানে চাল কিনেছেন জসিম উদ্দিন আহমদ ও লিয়াকত আলী। সুবল সাহা জানান, প্রথমে তাদের এখানে রেট ছিল ১৬ হাজার টাকা। এরপর তা নেমে আসে ১৫ হাজারে। সর্বশেষ সাড়ে ১৪ হাজারে। বলেন, রেট একেকবার একেক রকম হয়। লিয়াকত বলেন, সরকারি রেট তো ঠিকই আছে। বাজারের দর দেহেন না। কসবার আইয়ুব জানান, তাদের এখানে চালের দাম ছিল ১৬ হাজার। তবে পার্টিরে দেয়া অইছে ১৫ হাজার। সরাইলের চাল ব্যবসায়ী মরম মিয়া জানান, ১৫ হাজার টাকা দরে চাল কিনেছেন তারা। এ থেকে আবার খরচও আছে। বলেন, ব্যবসায়ী ৪ জন। মিল নাই। তার আক্ষেপ মিল থাকলে আরও সুবিধে করতে পারতেন। তবে সবচেয়ে কম দর দেয়া হয়েছে সদরে। মাত্র ১৩ হাজার টাকায় ১ টন চাল বিক্রি করতে হয়েছে প্রকল্প মালিকদের। এখানকার ব্যবসায়ী আলী মিয়া বলেন, এবার চালের মান খারাপ ছিল। গত বছরের পুরাতন চাল সাপ্লাই দেয়া অইছে। সারা দেশের মানুষই জানে চাল খারাপের খবর। তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ভূঁইয়া নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, আমার গোডাউনে কোন নিম্নমানের চাল নেই। যদি কেউ এরকম বলে তাকে বলেন চালের নমুনা দিতে। আমি তা পরীক্ষার জন্য ল্যারেটরিতে পাঠাবো। বরাদ্দ প্রাপ্তরা সরাসরি গোডাউনে গেলে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, আপনি নিজে গিয়ে দেখেন।
যেভাবে ভাগ-বাটোয়ারা: চালের দাম-মান যাই হোক ঘাটে ঘাটে টাকা দেয়ার কোন হেরফের নেই। বাঞ্ছারামপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, পিআইও অফিসে খরচ দিতে হয়েছে তাদের এক হাজার টাকা। মাস্টার রোল ২শ’ টাকা, খাদ্য অফিস ২শ’ টাকা, গোডাউন খরচ ৭শ’ টাকা, লেবার ১৬০ টাকা। আখাউড়ার এক ব্যবসায়ী জানান, পিআইও অফিসে দেড় হাজার টাকা খরচ দিতে হয়েছে। একেক উপজেলায় এই খরচও একেক রকম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে পিআইও অফিসে সব মিলিয়ে খরচ দিতে হয় ২০০০ টাকা। নবীনগরে ১৭শ’ থেকে ২০০০ টাকা। ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, এর বাইরে খাদ্য গুদামে ৪শ’ টাকা, খাদ্য কর্মকর্তা ১শ’ টাকা, খাদ্য অফিসের কর্মচারীদের টন প্রতি ৫০ টাকা করে খরচ দিতে হয়। কসবার ব্যবসায়ী আইয়ুব জানান, তাদের পিআইও অফিসে দিতে হয়েছে ১ হাজার টাকা। সরাইলের মরম মিয়া জানান, তাদের দিতে হয়েছে বিক্রয় মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগ। এই টাকা যায় কোথায়? পিআইও অফিসে যে টাকা রাখা হয় বা চাল ব্যবসায়ীরা প্রকল্প মালিকদের বিভিন্ন খরচের কথা বলে কমিয়ে যে টাকা দেন সেই টাকার মালিক কি শুধু তারা একাই হোন। নাকি এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানও পান সেই ভাগ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বিশেষ বরাদ্দটি হয় সংসদ সদস্যদের। আর সাধারণ বরাদ্দ আসে উপজেলার অনুকূলে। সরাইলের মরম মিয়া বলেন, পিআইও অফিস আমাদের কাছ থেকেও নেয়, আবার সরাসরি পার্টির কাছ থেকেও নেয়। এরপর সে টাকা কি হয় তা জানি না। জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা গুদাম থেকে চাল নির্বিঘ্নে এদিক সেদিক নিতে স্থানীয় থানা পুলিশকেও টন পিছু একটি অঙ্কের টাকা দেন। যদি এক হাজার টাকা করেও ধরা হয় তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৯ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পকেটে সরাসরি গেছে ১২ লক্ষাধিক টাকা। ১২ হাজার ২০ টন চাল-গম এর বিপরীতে এই টাকা তাদের পকেটে গেছে। চাল-গম কেনার ব্যবসায়ীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য বা সরকার দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের মনোনীত হয়ে থাকেন। তাদের কাছ থেকে থোক একটি অংশ চলে যায় ওইসব জন প্রতিনিধির পকেটে। প্রকল্প কর্মকর্তার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভাগ পাওয়ার বিষয়টিও ওপেনসিক্রেট। বরাদ্দ বিতরণের সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা থাকেন ইউএনও’দের কাছে কাছে। তাদের সব হিসাব-নিকাশ বোঝাতে হয় ইউএনও’র কাছে। কসবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুলের বক্তব্যেও এমনটা স্পষ্ট। জানান, ইউএনও’র হুকুম ছাড়া প্রকল্পের তালিকাও দিতে পারবেন না তিনি।
তালিকা নিষেধ: প্রকল্পের তালিকা দেখানো নিষেধ। তালিকা চাইলেই শুরু হয় নানা টালবাহানা। কসবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে তার এলাকার তালিকা চাইতেই বলেন, এটা ইউএনও সাহেবের কাছে আছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার বলেন, মৌখিকভাবে চাইলেই তো হবে না। লিখিত আবেদন করেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, তালিকা নিষেধ। নবীনগরের তালিকার জন্য একমাস মাস ধরে ঘুরে হয়রান হচ্ছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। তাকে পিআইও বলেছেন, তালিকা দিতে ইউএনও’র অনুমতি লাগবে। তালিকা না দেয়ার রহস্যের কথাও জানিয়েছেন সেখানকার এক সাংবাদিক। বলেন, টিআরের প্রকল্প দিয়ে ইউএনও’র বাসায় হাই কমোড বসানো হয়েছে। থানার টোল চেয়ার কেনা হয়েছে। এমন গোপন আরও অনেক প্রকল্পই থাকে তাদের। তাই তালিকা নিয়ে কঠোর এই গোপনীয়তা তাদের। 

Courtesy: http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTI5MzQ=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==

Crime Using Anti Corruption Commission

‘অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই ঘুষ’ 

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে টাকা দিয়েছেন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী, পুলিশের এসপি, দারোগা ও ওসি। দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে-এ কথা জানিয়ে ফোন করার পর পরই দুর্নীতিবাজরা যে কোনভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করতেন। এ জন্য তারা নিজেরাই দফায় দফায় ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকার অফার দিতেন। আপসরফা হলে দুর্র্র্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের নামে খোলা ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের একাউন্টে টাকা জমা পড়তো। এভাবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউর রহমান ও ইস্রাফিল। তিন দিনের রিমান্ডে পুলিশের কাছে এসব তথ্য দিয়েছে তারা। চক্রের ২ সদস্যকে গত  বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাদের কদমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউর রহমান অষ্টম শ্রেণী পাস হয়েও নিজেকে দুদকের সহকারী পরিচালক সাহাবউদ্দীন বলে পরিচয় দিতো। ২০১০ সাল থেকে তারা এ প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। পুলিশ প্রতারকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে তাদের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের কয়েকজন কর্মচারী জড়িত। তারাই মূলত তদন্তাধীন অভিযোগের তথ্য প্রতারকদের কাছে সরবরাহ করতো। কাজ সম্পূর্ণ হলে তারা পেতো কমিশন। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে জিয়াউর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনের কয়েকজন অসাধু কর্মচারীর নাম বলেছে যারা তাদের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে যারা দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছে তাদের সবার নাম ও পদবি বলতে পারেনি তারা। দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের জন্য ২০১১ সালে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের নামে একাউন্ট খোলে তারা। ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের বিজয়নগর শাখায় হিসাবটি খোলা হয়। তবে টাকা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা টাকা তুলে নিতো। ফলে ওই হিসাবে এখন স্থিতির পরিমাণ ৩ হাজার টাকার মতো বলে জানিয়েছে ব্যাংকের একটি সূত্র। হিসাবটি ফ্রিজ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারকরা জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাব খোলার আগে তারা হাতে হাতে ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতো। দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ের প্রধান ফটক থেকেও তারা অনেকের কাছে টাকা নিয়েছে। কিন্তু এটি অনিরাপদ এবং সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় তারা দুদক চেয়ারম্যানের নামে ব্যাংক হিসাব খোলে তারা। গোলাম রহমানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা সহায়তা করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে তারা টাকা নিয়েছে-বিআইডব্লিউটিসি নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী, নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক, চট্টগ্রামের ১টি থানার ওসি, ২ জন এসআই, বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২ সহকারী পরিচালক, একজন প্রকল্প পরিচালক, বিআরটিএ’র একজন ইন্সপেক্টর, ২ জন সহকারী পরিচালক ও ঢাকা মেডিকেলের একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নেতার কাছ থেকে। ব্যাংকে টাকা জমার হওয়ার পর পরই তারা এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা তুলে নিত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আল মামুন বলেন, এ প্রতারক চক্রের সদস্য ছিল ৩ জন। জিয়াউর ও ইস্রাফিল ছাড়া তাদের আরেক সদস্য ওমর কাজী মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ২-৩ মাস আগে ইতালি পালিয়ে গেছে। এ চক্রের নেতা জিয়াউর রহমান। আদায়কৃত টাকা দিয়ে সমপ্রতি একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি গড়েছে। গ্রেপ্তারকৃত জিয়াউর রহমান বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতো তারা। এরপর টেলিফোন গাইড থেকে নম্বর নিয়ে ওই ব্যক্তিদের ফোন করা হতো। গ্রেপ্তারকৃত ইসরাফিল জানিয়েছে, সে মালিবাগে একটি কাঁচের দোকানে কাজ করতো। ২০১০ সালে জিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের কিছুদিন পর জিয়া তাকে এসএ পরিবহনের কাকরাইল শাখায় ২০ হাজার টাকা তুলে আনতে পাঠায়। টাকা আনলে জিয়া তাকে এক হাজার টাকা বকশিশ দেয়। কিছুদিন পর আবার এসএ পরিবহন থেকে আরও ২০ হাজার টাকা এনে দেয় সে। এবার জিয়া তাকে তিন হাজার টাকা দেয়। একদিন ইস্রাফিলকে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে বলে জিয়া। কামরুল হক নামের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার রেফারেন্স দিয়ে গোলাম রহমানের নামে একাউন্ট খুলে দেয় ইস্রাফিল। একাউন্ট খোলার ১০ দিন পর ইস্রাফিল ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেক বইয়ের সব পাতায় স্বাক্ষর করে জিয়াকে দিয়ে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়ার পিতার নাম মৃত এছাহাক তালুকদার। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিরকাটা তালুকদার বাড়ি। সে কদমতলী এলাকার ১১১, জুরাইন মেডিকেল রোডের জনৈক রব মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। চক্রের অপর সদস্য ইস্রাফিলের পিতার নাম বজলুর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভাষানচর খানবাড়িতে। রাজধানীর মালিবাগ  চৌধুরীপাড়ার ২৫/১/এ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতো।  দুদকের পরিচালক (অবলোকন ও মূল্যায়ন) মেজর আশিস সরকার জানিয়েছেন, দুর্নীতির অনুসন্ধানের কোন পর্যায়ে কাউকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুযোগ নেই। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ইচ্ছা করলেও তা করতে পারবেন না। কারণ একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির তদন্ত বা অনুসন্ধান চলে। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান বিভাগের কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার তাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, যদি কেউ দুদকের নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবি করে বা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব দেয় তবে সঙ্গে সঙ্গে তা দুদককে জানানো উচিত। তাহলে দুদক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। র‌্যাব ১০-এর অধিনায়ক আমীর মজিদ জানিয়েছেন, এ ধরনের আরও কোন প্রতারক চক্র সক্রিয় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে কারও কাছে তথ্য থাকলে র‌্যাবকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

Courtesy: http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTI5MjU=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==

July 4, 2012

Threatened to thrown away from 7th floor by the deputy director, for not paying BRIBE

ঘুষ না দেয়ায় প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৮ তলা থেকে ফেলে দেয়ার হুমকি

৪ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় শিক্ষা ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মচারীকে ৮ তলা থেকে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, টাকা না দেয়ায় ওই কর্মচারীর কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নেয়া হয়েছে জোর করে। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) বিজয় কুমার ঘোষ নিজেই এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিত কর্মচারী ফুয়াদ হোসেন কাদেরী। বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। ১২ই জুন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কক্ষে নির্যাতন করে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নেন বিজয় কুমার ঘোষ। এ সময় প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহিল আজাদ ও নিয়োগ কমিটির প্রধান এবং অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আবদুল লতিফও উপস্থিত ছিলেন। পদত্যাগপত্রে ফুয়াদকে লিখতে বলা হয় আমি শারীরিকভাবে অক্ষম তাই চাকরি থেকে অব্যাহতি চাচ্ছি। অথচ সচিবালয় ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্যগত সনদ নিয়ে ২২শে জুন গার্ড হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ফুয়াদ। এর আগে অবশ্য তিনি অধিদপ্তরে মাস্টাররোলে দীর্ঘ ৮ বছর কাজ করেছেন। গার্ড পদে ১০ জন, গাড়িচালক পদে ২ জন, এলএলএসএস পদে ৯ জন ও চৌকিদার পদে ৯ জনের নিয়োগের বিষয়ে ২০১১ সালের ২৪শে মার্চ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ওই নিয়োগ কমিটির প্রধান ছিলেন অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল লতিফ (অর্থ ও হিসাব), সদস্য সচিব ছিলেন প্রকৌশল শাখার উপ-পরিচালক (প্রশাসন) বিজয় কুমার ঘোষ। চাকরিতে আবেদন করার পর থেকে চাকরি দেয়ার নামে বিজয় কুমার ঘোষ টাকা দাবি করে আসছিলেন ফুয়াদের কাছে। ১৭ই মে ফুয়াদ শিক্ষাসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিতে মিরপুরের বিআরটিএ-তে যাচ্ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোকেয়া সরণি পর্যন্ত যেতেই বিজয় কুমার ঘোষ ফোন করেন তাকে। ফোনে তাকে দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যেতে বলেন। ফুয়াদ মোটরসাইকেলযোগে প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে স্টিকারযুক্ত একটি গাড়ি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যান। ফুয়াদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। বিজয় এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর রুম থেকে বেরিয়ে ইশারা করে তাকে ১৭ তলায় নামতে বলেন। ১৭ তলায় গিয়ে ফুয়াদকে তিনি বলেন, তোর চাকরি হতে হলে কমপক্ষে ৪ লাখ টাকা লাগবে। আজই দিতে হবে ২ লাখ টাকা, পরে আরও দিতে হবে ২ লাখ টাকা। টাকা দিতে অস্বীকার করলে বিজয় রেগে গিয়ে তাকে বলেন, তোর চাকরি কিভাবে হয় দেখে নেবো। এরপর চলে যান ফুয়াদ। ২০শে মে ফুয়াদ কাজ করছিলেন প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিচ তলায়। সন্ধ্যায় বিজয় অফিস থেকে নিচে নামেন। ওইদিনই নিয়োগ পরীক্ষার ফাইনাল বৈঠক ছিল। তার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুজিবুর রহমানও ছিলেন। মুজিবুর রহমান চলে গেলে বিজয় তার গাড়ি রেডি করে দিতে বলেন ফুয়াদকে। এ সময় তিনি বলেন, টাকা তো দিলি না তোকে সাভারে বদলি করে দিয়েছি। দ্রুত টাকার ব্যবস্থা না করলে তোর চাকরিটাও থাকবে না। ২২শে মে ফুয়াদ চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি করাকালে বিজয় প্রায় দিনই তার কাছে টাকার তাগাদা দিতেন। ১২ই জুন প্রধান প্রকৌশলীর পিএ যান্ত্রিক শাখায় ফোন করে ফুয়াদকে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর বিজয়ও ফোন করে ফুয়াদকে প্রধান প্রকৌশল শাখায় যেতে বলেন। সাড়ে ১১টার দিকে ফুয়াদ প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। গিয়ে দেখেন সেখানে প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহিল আজাদ, পরিচালক আবদুল লতিফ বসা। বিজয় এ সময় ফুয়াদকে প্রশ্ন করেন, তুমি কয়টা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছো? সত্য কথা বলো। তা না হলে এখনই র‌্যাব ডেকে রিমান্ডে দেবো। দুটি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা স্বীকার না করলে আটতলা থেকে ফেলো দেবো। এ সময় ফুয়াদের শার্টের পেছনে ধরে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন বিজয় কুমার ঘোষ। ১২ই জুন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী লেখা বরাবর লেখা এক  প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহিল আজাদ ও পরিচালক আবদুল-আবেদনে ফুয়াদ লিখেছেন লতিফের উপস্থিতিতে উপ-পরিচালক বিজয় কুমার ঘোষ আমাকে শারীরিকভাবে অক্ষম বলে সাদা কাগজে আবেদন করে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি প্রস্তাব অস্বীকার করলে আইনে সোপর্দ করবে বলে বলা হয়। এমনকি আমাকে হুমকি দিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়া হয়। আমি আমার অপরাধ জানতে চাইলে ডিডি তড়িঘড়ি করে কোন উত্তর না দিয়ে আমাকে আবেদন লেখা শুরু করতে বলেন। ফুয়াদ শিক্ষামন্ত্রীর বরাবর লেখা আবেদনে আরও লিখেছেন, আমি হতাশ হয়ে তাদের মুখের দিতে তাকিয়ে থেকে আবেদন  আমি শারীরিকভাবে অক্ষম বিধায় নিয়োগ-লিখতে শুরু করি। আবেদনে লিখতে বলা হয় থেকে অব্যাহতি চাই। অথচ আমি সচিবালয় ক্লিনিক থেকে সনদ নিয়ে ২২শে মে কাজে যোগদান করি। আবেদনে স্বাক্ষরের পর আমাকে ডিডি প্রশাসনের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ১৫ দিনের জন্য বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য বলেন এবং এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা ভবনে না আসার জন্য হুমকি দেন। ফুয়াদ ওই ঘটনার পর শিক্ষা সচিবের কাছে বিস্তারিত ঘটনা বলেন। শিক্ষা সচিব সঙ্গে সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে জানতে চান ফুয়াদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে কিনা। উত্তরে প্রধান প্রকৌশলী বিষয়টি স্বীকার করেন। শিক্ষা সচিব এ সময় প্রধান প্রকৌশলীকে বলেন, ফুয়াদের বিরুদ্ধে যাতে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখবে। ১৩ই জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদের সভাপতি হায়দার আলী মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজনকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলেন ও লিখিত অভিযোগ করেন। মন্ত্রী ঘটনা শুনে দুঃখপ্রকাশ করেন। মন্ত্রী নিজেই অভিযোগটি প্রধান প্রকৌশলী বরাবর মার্ক করেন। বিষয়টি তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়েছে। এ বিষয়ে হায়দার আলী মোল্লা মানবজমিনকে বলেন, ছেলেটি মন্ত্রণালয়ের নিচে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলো। আমরা তাকে সচিব মহোদয়ের কাছে নিয়ে যাই। সচিব প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান। তিনি বলেন, কোন সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে বিজয় কুমার ঘোষ বলেন, আমি তার কাছ থেকে কখনও টাকা চাইনি। ফোনে তাকে মন্ত্রণালয়ে যেতে বলেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অনেককে ফোন করি, তাকেও হয়তো ফোন করেছিলাম। তার কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র নিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জোর করে পদত্যাগপত্র নিইনি। সে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছে। পদত্যাগপত্রে তাকে শারীরিকভাবে অক্ষম বলে আপনি জোর করে স্বাক্ষর নিয়েছেন এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে নিজেই শারীরিকভাবে অক্ষম বলে স্বীকার করেছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে সে কিভাবে অক্ষম হয়ে গেল জানতে চাইলে বিজয় কুমার ঘোষ বলেন, এটা আমি কি করে বলবো? প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহিল আজাদ বলেন, ওই পদত্যাগপত্র এখনও গ্রহণ করা হয়নি। আপনার কক্ষে একজন কর্মচারীর কাছ থেকে জোর করে কিভাবে পদত্যাগ নেয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে ফুয়াদ হোসেন কাদেরী বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

courtesy: http://www.mzamin.com/details.php?nid=MTE5OTc=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==